Editors Choice

3/recent/post-list

তালা ঝুলছে চট্টগ্রামের ডিমের আড়তে: সরকারি সংস্থা বলছে ‘লুকোচুরি’

তালা ঝুলছে চট্টগ্রামের ডিমের আড়তে: সরকারি সংস্থা বলছে ‘লুকোচুরি’


চট্টগ্রামের পাহাড়তলী বাজার, যেখানে ডিমের সবচেয়ে বড় আড়ত অবস্থিত, সেখানে সোমবারও সীমিত আকারে ৩০টি ডিমের দোকানে কেনাবেচা হয়েছে। তবে মঙ্গলবার সকালে দেখা যায়, বাজারের সব দোকানে একটিমাত্র দোকান ছাড়া সবকিছু তালাবদ্ধ। আড়তদারেরা জানিয়েছেন, সরকারি দামে ডিম বিক্রি করতে না পারার কারণে তারা দোকান বন্ধ রেখেছেন।

বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী প্রথম আলোকে জানান, গত শনিবার থেকে বড় আকারের ডিমের চালান আসা বন্ধ হয়ে গেছে। মঙ্গলবার বিকেলে কিছু দোকান খোলার পর প্রশাসনের অভিযান চালিয়ে জরিমানা করার ফলে সেগুলো আবার বন্ধ হয়ে যায়।

পাহাড়তলী বাজারে প্রায় ৫০টি ডিমের আড়ত ও পাইকারি দোকান রয়েছে এবং প্রতিদিন এখানে ২০ থেকে ২৫ লাখ ডিম বিক্রি হয়। কিন্তু গত শনিবার থেকে প্রায় সব আড়তে কেনাবেচা বন্ধ রয়েছে। কিছু দোকান খোলা থাকলেও বিক্রি নেই বললেই চলে। সরকারি সংস্থা অভিযোগ করেছে, রাতে দোকান খুলে বাড়তি দামে ডিম বিক্রি হচ্ছে, যা তারা ‘লুকোচুরি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

আড়তদারেরা জানিয়েছেন, সরকারি দামে ডিম কিনতে না পারা এবং প্রশাসনের জরিমানা করার কারণে তারা বিক্রি বন্ধ রেখেছেন। গত দেড় মাস ধরে তাদের বেশি দামে ডিম কিনতে হচ্ছে। সরকার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে কম, ফলে লোকসান গুনে বিক্রি করতে হচ্ছে। প্রশাসনের অভিযানের কারণে তাদের লোকসান আরও বেড়েছে।

১৬ সেপ্টেম্বর কৃষি বিপণন অধিদপ্তর ব্রয়লার মুরগির ডিমের দাম নির্ধারণ করে। উৎপাদক পর্যায়ে প্রতিটি ডিমের দাম ১০ টাকা ৫৮ পয়সা, পাইকারি পর্যায়ে ১১ টাকা ১ পয়সা এবং খুচরা পর্যায়ে ১১ টাকা ৮৭ পয়সা হওয়ার কথা। কিন্তু আড়তদারেরা বলছেন, খামারিদের কাছ থেকে ১২ টাকা ৮০ পয়সা দরে ডিম কিনতে হচ্ছে।

সরকার ডিমের দাম কমানোর জন্য আমদানির অনুমতি দিলেও তার প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। পাহাড়তলী বাজারের আড়তদার হুমায়ুন কবির বলেন, "নির্ধারিত দামে কিনতে পারলে নির্ধারিত দামে বিক্রি করা যায়। বাড়তি দামে কেনাবেচার কারণে শুধুমাত্র আমাদের দায়ী করা হচ্ছে।"

চট্টগ্রামে ডিম সরবরাহ মূলত টাঙ্গাইল, রাজশাহী, কিশোরগঞ্জ, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও কাপাসিয়া থেকে হয়। এর মধ্যে কুমিল্লা ও নোয়াখালী থেকেই বেশি ডিম আসছে। সম্প্রতি বন্যার কারণে এই এলাকার খামারগুলো তলিয়ে যাওয়ার ফলে ডিমের সংকট দেখা দিয়েছে।

আড়তদাররা জানান, খামারি ও ব্যবসায়ীরা ১২ টাকা ৮০ পয়সা দরে ডিম সরবরাহ করছেন, যেখানে সরকার বলছে ১১ টাকায় বিক্রি করতে হবে। তাই তারা লোকসান দিয়ে ডিম বিক্রি করতে পারছেন না। অন্যদিকে বাড়তি দামে বিক্রি করলেই জরিমানা হচ্ছে।

আজ বাজারে লেয়ার মুরগির ডিম বিক্রি হয়েছে সাড়ে ১৩ টাকায়, যা দুই সপ্তাহ ধরেই চলমান। ব্যবসায়ীদের মতে, মুরগির পুরো নিয়ন্ত্রণ করপোরেট ব্যবসায়ীদের হাতে। তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযান চালানো হয় না।

চট্টগ্রাম ডিম ব্যবসায়ী আড়তদার সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল শুক্কুর বলেন, "আমাদের বাড়তি দামে ডিম কিনতে হচ্ছে। কর্মকর্তারা বৈঠকের জন্য রাজি হন না। যতদিন সরবরাহকারীরা সরকার নির্ধারিত মূল্যে ডিম সরবরাহ করবে না, ততদিন আমাদের আড়তও বন্ধ থাকবে।"

সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে ভোক্তা ও খামারিদের স্বার্থ রক্ষা না করার অভিযোগ রয়েছে। আড়তদারদের বিরুদ্ধে যে জরিমানা হচ্ছে, তা মূলত করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুবিধা দিতে করা হচ্ছে, বলছেন ব্যবসায়ীরা। 

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ জানিয়েছেন, "বিভিন্ন জেলায় অভিযান হয়েছে। মধ্যস্বত্বভোগী আসলে আড়তদারেরাই। তারা একযোগে সব দোকান বন্ধ রেখেছেন, কিন্তু রাতে আবার বিক্রি করছেন। এটি একধরনের লুকোচুরি।"


Post a Comment

2 Comments

  1. উপযুক্ত প্রমাণ পেলে ওদের উপর কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হোক।

    ReplyDelete
  2. এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করুন।

    ReplyDelete