আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক শুনানি চলাকালে আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়েন। মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করা হয় এবং এ সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে অঝোরে কাঁদতে দেখা যায়।
রাজধানীর নিউমার্কেটে ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় আব্দুর রাজ্জাকের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুল হকের আদালত শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
রিমান্ড শুনানিতে সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক আদালতকে বলেন, "আমি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে আমেরিকার বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেছি। ২৪ বছর সরকারি চাকরি করেছি বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে। দেশপ্রেমের তাড়নায় আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছি।"
তিনি আরও বলেন, "স্বাধীনতার আগে স্বৈরাচার আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে জনসমাবেশ করেছি। ৬৯ সালে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। আমার বয়স যখন ১১ মাস, তখন বাবা মারা যান। আমি ও আমার ভাই নানা বাড়িতে মানুষ হয়েছি এবং আমরা স্বনির্ভর ছিলাম। আমার পরিবারের সবাই নিজ নিজ জায়গায় প্রতিষ্ঠিত। যে অভিযোগে আমাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তার সঙ্গে আমার বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই। আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। আমি আদালতের কাছে ন্যায়বিচার চাই।"
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আসামির সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন, এবং আব্দুর রাজ্জাকের পক্ষে হেমায়েত উদ্দিন খান (হিরণ) রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন।
শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। সোমবার রাত পৌনে ৮টার দিকে রাজধানীর ইস্কাটন এলাকা থেকে আব্দুর রাজ্জাককে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।
গত ১৯ জুলাই বিকালে নিউমার্কেট থানাধীন নীলক্ষেত এলাকায় পুলিশের গুলিতে ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ মারা যান। এ ঘটনায় তার শ্যালক আব্দুর রহমান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ ১৩০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।


2 Comments
আমরা বাংলার মাটিতেই এই ঘাতকদের শাস্তি দেখতে চাই।
ReplyDeleteএখন কেদে লাভ কি! সময় গেলে সাধন হবে না।
ReplyDelete