Editors Choice

3/recent/post-list

যেভাবে দেশ-বিদেশে ৫৮০ বাড়ির মালিক সাবেক ভূমিমন্ত্রী

যেভাবে দেশ-বিদেশে ৫৮০ বাড়ির মালিক সাবেক ভূমিমন্ত্রী



সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার পরিবারের নামে থাকা দেশ-বিদেশের ৫৮০টি বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট ও জমিসহ স্থাবর সম্পদ জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যে ৩৪৩টি, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২২৮টি এবং যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে নয়টি বাড়ি।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও আদালতের একাধিক সূত্রে জানা যায়, এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি ব্যাংক ও বাংলাদেশের একটি ব্যাংকের হিসাবও অবরুদ্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার দুদকের উপপরিচালক রাম প্রসাদ মণ্ডল সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী রুকমীলা জামানের মালিকানাধীন সম্পত্তিগুলো জব্দ করার জন্য আবেদন করেন। পরে শুনানির পর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালত এই আদেশ দেন।

জব্দ হওয়া সম্পদের মধ্যে চট্টগ্রামের দুটি অ্যাপার্টমেন্টও রয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে ৩৪৩টি, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২২৮টি এবং যুক্তরাষ্ট্রে নয়টি বাড়ি ও অন্যান্য স্থাবর সম্পদ জব্দ করা হবে। এসব সম্পদ ২০১৫ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে কেনা হয়েছে, যখন তিনি ভূমিমন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রী ছিলেন।

সাইফুজ্জামান চৌধুরী ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন, পরে তার স্ত্রী ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ওই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ছিলেন। দুদকের তদন্তে জানা গেছে, তারা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তা অবৈধভাবে ব্যবহার করেছেন।

দুদক সূত্র জানায়, সাইফুজ্জামান ও তার পরিবারের সদস্যদের আয়কর নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বিদেশি এসব সম্পদ অর্জনের বিষয়টি আয়কর নথিতে উল্লেখ করা হয়নি। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন না নিয়েই বিদেশে সম্পদ অর্জনের চেষ্টা করেছেন। 

তদন্তে উঠে এসেছে, সাইফুজ্জামান চৌধুরী সরকারের প্রতিমন্ত্রী থাকা অবস্থায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে অপরাধলব্ধ অর্থ বিদেশে পাচার করে সম্পদ ক্রয় করেছেন। 

৭ অক্টোবর আদালত সাইফুজ্জামান ও তার স্ত্রীকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয়, কারণ দেশত্যাগের আশঙ্কা ছিল। এছাড়া, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বিএফআইইউ তাদের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দেয়। 

সাইফুজ্জামান চৌধুরী ২০১৩ সালের উপনির্বাচনে চট্টগ্রাম-১২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৩ আসন থেকে পুনরায় নির্বাচিত হন। তিনি ২০১৪ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত ভূমিমন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং পরে ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি ভূমিমন্ত্রী হন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি আবারও চট্টগ্রাম-১৩ আসন থেকে নির্বাচিত হন।


Post a Comment

3 Comments

  1. প্রশংসনীয় উদ্যোগ।ওনাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।

    ReplyDelete