বিসিআইসি গত ২৮ বছরে ২৪ বছরই লোকসান দিয়েছে, ৭৯৮০ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) গত ২৮ বছরে ২৪ বছরই লোকসান দিয়েছে, যার মোট পরিমাণ ৭৯৮০ কোটি টাকা। এই তথ্য সম্প্রতি বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিসিআইসি রেকর্ড ৯১৩ কোটি টাকা লোকসান করেছে।
বিসিআইসি প্রধানত সার উৎপাদন করে, কিন্তু গ্যাস সংকটের কারণে বেশিরভাগ সার কারখানা বন্ধ রয়েছে, যার ফলে লোকসান বাড়ছে। এছাড়া, সিমেন্ট, কাগজ, এবং গ্লাস উৎপাদনকারী কারখানাগুলোরও দীর্ঘকাল ধরে লোকসান চলমান রয়েছে।
বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান বলেন, “ইউরিয়া কারখানাগুলো আমাদের মূল, কিন্তু গ্যাসের অভাবে উৎপাদন না হওয়ায় এই লোকসান।” বর্তমানে বিসিআইসির নিয়ন্ত্রণে ১৮টি কারখানা আছে, যেখানে ১১টি চালু এবং ৭টি স্থায়ীভাবে বন্ধ রয়েছে।
গ্যাস সংকটের পাশাপাশি, পুরনো কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা কমে গেছে। ইউরিয়া সার উৎপাদনে ধারাবাহিকভাবে কমতি দেখা যাচ্ছে, যা দেশের খাদ্য উৎপাদনে ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় ইউরিয়া সার মজুতও হ্রাস পাচ্ছে।
বিসিআইসির চারটি কারখানা, যেমন কর্ণফুলী পেপার মিলস, ছাতক সিমেন্ট, উসমানিয়া গ্লাস শিট ফ্যাক্টরি এবং বাংলাদেশ ইনসুলেটর অ্যান্ড স্যানিটারিওয়্যার ফ্যাক্টরি, গত অর্থবছরে ১১৫ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে। এই চারটি কারখানা গত ১০ বছরে টানা লোকসান দিয়ে আসছে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধির কারণে এসব কারখানার টিকিয়ে রাখার যৌক্তিকতা নেই এবং সরকারের উচিত গ্যাস সংকট দূর করে লাভজনক কারখানাগুলোকে সচল রাখা।
বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বলা যায়, বিসিআইসির জন্য অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, অন্যথায় এই সংকট দেশের খাদ্য উৎপাদন এবং অর্থনীতির উপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।


2 Comments
এদের বেতন বন্ধ করুন, দেখবেন লাভ হবে
ReplyDeleteঅন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দেখে সকলের সমস্যা শুরু হয়ে গেছে।
ReplyDelete