নিয়মিত আয়কর দেয় ১ শতাংশ সংবাদপত্র
দেশের মাত্র ছয়টি দৈনিক সংবাদপত্র নিয়মিত আয়কর দেয়, যা মোট সংবাদপত্রের সংখ্যা তথা ৫৮৪টির মধ্যে মাত্র ১ শতাংশ। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের (ডিএফপি) গত আগস্ট মাসের হিসাব অনুযায়ী, দেশে এতোসংখ্যক দৈনিক সংবাদপত্র প্রকাশিত হলেও আয়কর প্রদানকারী সংবাদপত্রের সংখ্যা খুবই কম।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য মতে, গত অর্থবছরে (২০২৩-২৪) এই ছয় সংবাদপত্র আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছে। তাদের মধ্যে ২২টি সংবাদপত্র রিটার্ন জমা দিলেও করযোগ্য আয় ছিল না। সব মিলিয়ে ২৮টি সংবাদপত্র রিটার্ন জমা দিয়েছে।
আয়কর প্রদানকারী সংবাদপত্রগুলো হল: প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার, সমকাল, ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, বাংলাদেশ প্রতিদিন (ইস্ট-ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ) এবং দৈনিক আজাদী। এই ছয়টি সংবাদপত্র প্রতিবছর গড়ে ২৫ কোটি টাকা কর দেয়।
সংবাদপত্রের ওপর করপোরেট করের হার উচ্চ (২৭.৫ শতাংশ) এবং নিউজপ্রিন্ট আমদানির ক্ষেত্রেও শুল্ক-কর বেশি। যদিও সংবাদপত্রের প্রচারসংখ্যা এবং বিজ্ঞাপন কমছে, মালিকেরা কর কমানোর দাবি জানাচ্ছেন।
প্রথম আলোর প্রকাশক মিডিয়াস্টার লিমিটেড বৃহৎ করদাতা ইউনিটে নিবন্ধিত। অন্য সংবাদপত্র প্রকাশকরা কর অঞ্চল-৫ এ নিবন্ধিত। প্রতিবছর এনবিআর সেরা করদাতাদের সম্মাননা দেয় এবং প্রথম আলো আটবার এ সম্মাননা পেয়েছে।
গত বছর যেসব সংবাদপত্র রিটার্ন দিয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছে: কালের কণ্ঠ, যুগান্তর, দ্য সান, ঢাকা ট্রিবিউন, নিউ এজ, মানবজমিন, দিনকাল, ইত্তেফাক, যায়যায়দিন, এবং ইনকিলাব।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান মন্তব্য করেন, সংবাদপত্রকে জবাবদিহির মধ্যে আসা উচিত এবং তাদের আয়-ব্যয়ের তথ্য সঠিকভাবে তুলে ধরতে হবে।
গত আগস্টে দেখা গেছে, ৫৭টি দৈনিক সংবাদপত্র এক লাখ কপির বেশি প্রচারসংখ্যা দেখিয়েছে।
সংবাদপত্রের করসংক্রান্ত শর্ত
২০২৩ সালের জানুয়ারিতে সংবাদপত্র ও সাময়িকী মিডিয়া তালিকাভুক্তি ও নিরীক্ষা নীতিমালা প্রকাশিত হয়েছে। এর অধীনে, সংবাদপত্রকে বিভিন্ন করসংক্রান্ত শর্ত পালন করতে হয়।
এছাড়া, সংবাদপত্রের কাঁচামাল নিউজপ্রিন্টের ওপর ৫% আমদানি শুল্ক, ১৫% ভ্যাট এবং ৫% অগ্রিম কর রয়েছে, যা মিলিয়ে প্রায় ২৭% করভার।
নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি এ কে আজাদ বলেন, “সংবাদপত্রকে শিল্পের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু এখনও কোনো কর সুবিধা নেই।” তিনি আরও দাবি করেন, সরকার সংবাদপত্রের ওপর থেকে সব ধরনের শুল্ক-কর প্রত্যাহার করুক।
সার্বিকভাবে, এই পরিস্থিতি সংবাদপত্রের জন্য চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে এবং মালিকেরা যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।


4 Comments
সকলকেই আইনের প্রতি আন্তরিক হওয়া উচিত।
ReplyDeleteসকলই ব্যক্তি/প্রতিষ্টান আয়কর প্রদান করতে হবে।
ReplyDeleteসকলেরই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া প্রয়োজন এবং আইন মানার মনোভাব গড়ে তোলা উচিত।
ReplyDeleteদেশের মঙ্গলের জন্য সকলে আয়কর দিন
ReplyDelete