বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্রে জানা গেছে, এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর প্রতিনিধিদের বাংলাদেশে আসার আগে নেওয়া হয়েছে। ৪ ডিসেম্বর আইএমএফের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসবে, এবং তাদের পরামর্শের ভিত্তিতে ঋণ খেলাপির সংজ্ঞা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হয়েছে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে একটি শক্তিশালী আর্থিক খাত গড়ে তোলার জন্য এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, ব্যাংক খাতের সংস্কারের অংশ হিসেবে ঋণ খেলাপি কমানোর জন্য এই নতুন নীতিমালা জারি করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ঋণের কিস্তি পরিশোধের শেষ দিন পার হলেই ঋণটি মেয়াদোত্তীর্ণ হিসেবে গণ্য হবে। পরবর্তী ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে তা নিম্নমান, ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে সন্দেহজনক এবং ১২ মাস বা তার বেশি সময় পর তা মন্দ বা ক্ষতিজনক হিসেবে চিহ্নিত হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নির্দেশনা ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে, এবং ব্যাংকগুলোকে এ জন্য প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হবে। সার্কুলারে বলা হয়েছে, স্ট্যান্ডার্ড ঋণের জন্য ১% প্রভিশন, স্পেশাল মেনশন অ্যাকাউন্টের জন্য ৫% প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হবে। খেলাপি ঋণের ক্ষেত্রে, ঋণের মান অনুযায়ী ২০% থেকে ১০০% পর্যন্ত প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হবে।
এছাড়া, খেলাপি ঋণের ক্ষেত্রে অর্জিত সুদ আয় এখন থেকে সাসপেন্স অ্যাকাউন্টে জমা করা হবে, এবং যদি কোনো ঋণ ক্ষতিজনক মানে চলে যায়, তবে সুদের চার্জ বন্ধ হয়ে যাবে। পুনর্নির্ধারিত ঋণের ক্ষেত্রে সুদও সাসপেন্স অ্যাকাউন্টে জমা হবে, যা আয় অ্যাকাউন্টে জমা করা যাবে না।
এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন হলে, বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে ঋণ খেলাপির হার কমে যাবে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।


1 Comments
ভালো পদক্ষেপ!!!
ReplyDelete