Editors Choice

3/recent/post-list

নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার: আলোচনা চলছে ‘না ভোট’ এবং ‘ভোট রিকল’ নিয়ে

নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার: আলোচনা চলছে ‘না ভোট’ এবং ‘ভোট রিকল’ নিয়ে

নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনে নতুন নতুন প্রস্তাব আসছে, যার মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রপতি এবং নারী আসনে সরাসরি নির্বাচন, ‘না ভোট’ ফিরিয়ে আনা এবং ভোট রিকল করার বিষয়। কমিশন এ বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবও আলোচনায় উঠে এসেছে।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন বন্ধে ‘না ভোট’ ফেরানোর প্রস্তাব

সংস্কার কমিশন মনে করছে, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন বন্ধ করতে হবে। এই লক্ষ্যে ‘না ভোট’ ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা আগেও নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ভোটারদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে কাজ করেছিল। কমিশন সদস্য অধ্যাপক ড. জাহেদ উর রহমান জানান, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ যাতে না থাকে, সে বিষয়ে তারা দৃঢ় অবস্থানে রয়েছেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা

নির্বাচন কমিশন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনাও নিয়ে আলোচনা করছে। কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. জাহেদ উর রহমান জানান, তারা নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চান, যাতে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব হয়।

সংবিধান সংস্কার: সরকারী মেয়াদ কমানোর প্রস্তাব

সংবিধান সংস্কার কমিশন সরকারের মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে চার বছর করার বিষয়েও ভাবছে। এই পরিবর্তন প্রস্তাবিত হলেও, এটি নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং তাই কমিশন এই বিষয়ে মতামত নিতে ড. জাহেদ উর রহমানকে ডেকেছিল।

প্রযুক্তি ব্যবহার ও প্রবাসীদের ভোট: নতুন প্রস্তাব

কমিশন সভায় প্রযুক্তির ব্যবহারের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, বিশেষত প্রবাসী ভোটারদের ভোটের সুযোগ নিশ্চিত করতে। এছাড়া, কমিশন প্রস্তাব করেছে, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট শতাংশ ভোট পেলে নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি পুনঃমূল্যায়ন করা হতে পারে।

নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কারের জন্য রাজনৈতিক ঐক্যমতের প্রয়োজন

কমিশন প্রধান ড. বদিউল আলম মজমুদার জানান, রাজনৈতিক ঐক্যমতের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন নিয়োগ, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় করা, এবং অন্যান্য সংস্কারের ব্যাপারে আলোচনা চলছে। তবে তিনি সতর্ক করেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে লিখিত প্রস্তাব দিতে হবে, যেগুলোর ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

‘না ভোট’ এবং ‘ভোট রিকল’ নিয়ে সিপিবি ও বিএনপির মতামত

কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনের জন্য ‘না ভোট’ ফেরানো খুবই জরুরি। তিনি জানান, ‘না ভোট’ না থাকলে নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন হওয়ার সুযোগ থাকবে না। পাশাপাশি, তিনি ভোট রিকল ব্যবস্থা প্রস্তাব করেছেন, যাতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি যদি জনগণের স্বার্থে কাজ না করেন, তাহলে তাদের পদ বাতিল করে ফের নির্বাচন করা যায়।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, দলটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক নির্বাচন ব্যবস্থার পক্ষে এবং নির্বাচন কমিশনে আসা প্রস্তাবের মধ্যে যেগুলো বাস্তবসম্মত, সেগুলোর সাথে তারা একমত। তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সরাসরি হওয়া উচিত নয় বলে তাদের মত, কারণ তারা সংসদীয় ব্যবস্থায় বিশ্বাসী।

সংস্কারের খসড়া প্রস্তাব প্রস্তুত

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সংস্কারের জন্য খসড়া প্রস্তাব প্রস্তুত করা হয়েছে এবং এটি শীঘ্রই প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া হবে। কমিশন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছে এবং আশা করছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা তাদের সংস্কার প্রস্তাব জমা দিতে পারবে।

মন্তব্য এবং মতামতের আহ্বান

নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন বর্তমানে ওয়েবসাইট ও ই-মেইলের মাধ্যমে জনগণের মতামত গ্রহণ করছে। এর মাধ্যমে সকল নাগরিকদের মতামত সংগ্রহ করা হচ্ছে, যাতে নির্বাচন ব্যবস্থা আরও সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হতে পারে।

এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের মাধ্যমে নির্বাচন ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী এবং নিরপেক্ষ হবে, যা দেশের গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে, এমনটাই আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


Post a Comment

1 Comments