Editors Choice

3/recent/post-list

বিটকয়েনের প্রতিষ্ঠাতার পরিচয় উদ্‌ঘাটনে আরও এক ব্যর্থ প্রচেষ্টা

বিটকয়েনের প্রতিষ্ঠাতার পরিচয় উদ্‌ঘাটনে আরও এক ব্যর্থ প্রচেষ্টা


বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েন বর্তমানে এক বিশাল আর্থিক শক্তি হয়ে উঠেছে। আজকের ক্রিপ্টো জগতের ভিত্তি এটি, যা এখন বিশ্বের শীর্ষ বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানগুলো এবং এমনকি কিছু দেশের আনুষ্ঠানিক মুদ্রা হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে, বিটকয়েনের প্রতিষ্ঠাতা কে, এই প্রশ্ন এখনও এক রহস্যের মতো রয়ে গেছে। 

বিটকয়েনের প্রতিষ্ঠাতার পরিচয় খুঁজে বের করার প্রচেষ্টা কখনো সফল হয়নি। সম্প্রতি, একটি নতুন প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে, এক সংবাদ সম্মেলনে সাতোশি নাকামোটো, বিটকয়েনের রহস্যময় স্রষ্টা হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিটি আত্মসমর্পণ করবেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়ে। তবে শেষ পর্যন্ত, এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে শেষ হয়, আর বিটকয়েনের প্রতিষ্ঠাতার পরিচয় আবারও অজানা রয়ে যায়।

এপ্রিল মাসে এইচবিও চ্যানেলে একটি তথ্যচিত্র প্রচারিত হয়, যেখানে কানাডার বিটকয়েন বিশেষজ্ঞ পিটার টডকে সাতোশি নাকামোটো হিসেবে শনাক্ত করা হয়। কিন্তু পিটার টড নিজে এই দাবিকে অস্বীকার করেন, এবং ক্রিপ্টো জগৎও এই দাবি গুরুত্ব দেয়নি। 

এদিকে, গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়, যেখানে দাবি করা হয়েছিল যে সাতোশি নাকামোটো তার পরিচয় প্রকাশ করবেন। এই সংবাদে গোটা ক্রিপ্টো বিশ্বের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে, সম্মেলনে উপস্থিত হওয়া ব্যক্তির দাবি অনুযায়ী, তিনি সাতোশি নাকামোটো—এমনকি নিজেকে বিটকয়েনের স্রষ্টা দাবি করলেও, তার পক্ষে কোনো শক্তিশালী প্রমাণ প্রদান করা হয়নি। 

এ সময় সাংবাদিকরা বিরক্ত হয়ে পড়েন এবং কিছুক্ষণ পর জানা যায়, এই 'স্বঘোষিত সাতোশি' ও সম্মেলনের আয়োজক চার্লস অ্যান্ডারসন বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছে। সাংবাদিকদের কাছ থেকে কোনো প্রমাণ বা বিশ্বাসযোগ্য তথ্য না পাওয়ায়, তারা শেষ পর্যন্ত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

এটি নতুন কিছু নয়। এর আগেও সাতোশি নাকামোটোর পরিচয় উদ্ঘাটনের চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু প্রতিটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ২০১৪ সালে, নিউজউইক পত্রিকা দাবি করেছিল যে, সাতোশি নাকামোটো হচ্ছেন ডোরিয়ান নাকামোটো, এক জাপানি-আমেরিকান ব্যক্তি, তবে তিনি সেই দাবি অস্বীকার করেন। এক বছর পর, অস্ট্রেলিয়ার কম্পিউটার বিজ্ঞানী ক্রেইগ রাইটকে সাতোশি হিসেবে শনাক্ত করা হয়, কিন্তু তিনিও শেষ পর্যন্ত প্রমাণ দিতে পারেননি। এমনকি ইলন মাস্ককেও নিয়ে নানা গুজব উঠেছিল, কিন্তু তিনি এসব দাবিকে অস্বীকার করেছেন।

এখন প্রশ্ন হলো, বিটকয়েনের প্রতিষ্ঠাতার পরিচয় জানা কি সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ? ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজার এতটাই বিস্তৃত হয়েছে যে, তার বর্তমান বাজারমূল্য গুগলের চেয়ে বেশি। তবে, বিটকয়েনের গোপনীয়তার মধ্যে এক ধরনের কৌশল থাকতে পারে। সাতোশি এবং তার সহযোগীরা এখন আনুমানিক ৬৯ বিলিয়ন ডলারের মালিক, এবং তাদের পরিচয় জানানো হলে হয়তো তাদের নিরাপত্তা বিপন্ন হতে পারে। 

পিটার টড, যাকে কিছুদিন আগে সাতোশি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে ক্রিপ্টো দুনিয়ার অনেকেই মনে করেন, সাতোশি নাকামোটোর পরিচয় গোপন রাখা শুধু উদ্দেশ্যমূলক নয়, বরং প্রয়োজনীয়। 

বিশ্লেষকদের মতে, সাতোশির পরিচয় খুঁজে বের করার চেষ্টায় অনেকেই ক্রিপ্টোকারেন্সি কীভাবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং পরিবর্তন আনতে পারে, সে বিষয়টির গুরুত্ব খাটো করে দেখছেন। আজকের দিনে, যখন বিটকয়েনের মূল্য ৬৭,৬৬৪ ডলার, তখন অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করছেন যে মার্কিন নির্বাচন পরবর্তী সময় বিটকয়েনের দাম আবার কমে যেতে পারে। 

এতসব প্রচেষ্টা ও রহস্যের পরও, বিটকয়েনের প্রতিষ্ঠাতার পরিচয় এখনো রয়ে গেছে অজানা, এবং হয়তো সেটি নিয়েই ক্রিপ্টো জগতের ভবিষ্যত উন্মোচিত হবে।


Post a Comment

1 Comments

  1. এটা জানা কি খুব জরুরি????

    ReplyDelete