বয়স বাড়লে কেন কমে উচ্চতা?
আমরা জানি, জন্মের পর থেকে বয়স বাড়ার সাথে সাথে উচ্চতা বাড়ে, তবে নির্দিষ্ট বয়স পর এই বৃদ্ধি থেমে যায়। কিন্তু অনেকেই হয়তো জানেন না, বয়স বাড়ার সাথে সাথে উচ্চতা আবার কমেও যেতে পারে। তাহলে বয়স বাড়লে উচ্চতা কমার পেছনে আসলে কী কারণ রয়েছে? চলুন, এ বিষয়ে বিস্তারিত জানি।
১. হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়া
বয়স বৃদ্ধির সাথে শরীরে নানা পরিবর্তন ঘটে, এর মধ্যে অন্যতম হলো অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ের ক্ষয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে নতুন হাড় গঠনের পরিবর্তে পুরনো হাড়ের শোষণ বৃদ্ধি পায়, ফলে হাড়ের ঘনত্ব কমে যায়। তরুণ বয়সে হাড় গঠনের প্রক্রিয়া ও হাড় শোষণ মধ্যে ভারসাম্য থাকে, তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে এটি আরও বেশি অমীমাংসিত হয়ে ওঠে। বিশেষ করে বয়স ৫০ পেরোনোর পর পুরুষদের এবং মেনোপজের পর নারীদের মেরুদণ্ডের হাড় দুর্বল হতে থাকে। এই দুর্বল হাড়ের কারণে উচ্চতা কমে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
২. ইন্টারভার্টেব্রাল ডিস্কের ক্ষয়
আমাদের মেরুদণ্ডের হাড়ের মধ্যে রয়েছে ইন্টারভার্টেব্রাল ডিস্ক, যা জেলি জাতীয় পদার্থ দিয়ে পূর্ণ থাকে। এই ডিস্কগুলো মেরুদণ্ডের হাড়ের মধ্যে কুশন বা গদি হিসেবে কাজ করে, মেরুদণ্ডকে নমনীয় এবং শক্তিশালী রাখে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে এই ডিস্কগুলো শুকিয়ে যেতে থাকে এবং এর স্থিতিস্থাপকতা কমে যায়। এর ফলে ডিস্ক সংকুচিত হয়ে যায় এবং হাড়ের মধ্যে শূন্যস্থান তৈরি হয়, যা উচ্চতা কমানোর মূল কারণ। এই প্রক্রিয়া সাধারণত মধ্যবয়স থেকে শুরু হয়, এবং ৬০ বছর বয়সের পর এটি আরও গুরুতর হতে পারে।
৩. কাইফোসিস (Postural Kyphosis)
বয়স বাড়লে অনেকের মেরুদণ্ড কিছুটা বাঁকাতে শুরু করে, যার ফলে তাঁরা আগের মতো সোজা হয়ে হাঁটতে পারেন না। এ ধরনের সমস্যাকে বলা হয় কাইফোসিস। এটি মূলত মেরুদণ্ডের ক্ষয় বা দুর্বলতার কারণে ঘটে। কিছুটা কুঁজো হয়ে হাঁটতে দেখা যায় বয়স্ক ব্যক্তিদের, বিশেষ করে পেট এবং পিঠের পেশি দুর্বল হয়ে গেলে মেরুদণ্ড তার স্বাভাবিক অবস্থান ধরে রাখতে পারে না। এছাড়াও, স্নায়ুবিক সমস্যার কারণে যেমন পারকিনসনস রোগের মতো পরিস্থিতি, শরীরের অবস্থান পরিবর্তন হতে পারে, যা উচ্চতার উপরও প্রভাব ফেলে।
অর্থাৎ, বয়স বাড়ার সঙ্গে উচ্চতা কমে যাওয়ার পেছনে একাধিক শারীরিক পরিবর্তন দায়ী। হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়া, মেরুদণ্ডের ডিস্ক ক্ষয় এবং কাইফোসিসের মতো সমস্যা একযোগভাবে আমাদের উচ্চতা কমিয়ে ফেলে। এই কারণে বয়স্কদের জন্য নিয়মিত হাড়ের যত্ন নেওয়া, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং শরীরচর্চা করা অত্যন্ত জরুরি।


1 Comments
ধন্যবাদ এত প্রয়োজনীয় তথ্য দেয়ার জন্য।
ReplyDelete