Editors Choice

3/recent/post-list

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পাশে রয়েছে: নিকোল চিউলিক

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পাশে রয়েছে: নিকোল চিউলিক

যুক্তরাষ্ট্রের উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিকোল চিউলিক বলেছেন, বাংলাদেশ সরকারের এবং জনগণের পাশে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাসে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের বিজয়ের ৫৩তম বার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে এ কথা জানান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার সময় নিকোল চিউলিক বলেন, বাংলাদেশের নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার প্রচেষ্টাগুলোর প্রতি সমর্থন জানায় যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বাংলাদেশের বিজয়ের পেছনে যে ত্যাগ ও সংগ্রাম রয়েছে, তা পৃথিবীতে এক অনন্য নজির হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

তিনি আরও বলেন, "বাংলাদেশের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্র অন্যতম বৃহত্তম অংশীদার হতে পেরে গর্বিত। আমরা বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের পাশে আছি এবং গণতন্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং সংস্কার কর্মসূচির অগ্রগতি স্বাগত জানাই।"

নিকোল চিউলিক সম্প্রতি জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের সাইডলাইনে প্রেসিডেন্ট বাইডেন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংঙ্কেনের সাথে প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ফলপ্রসূ বৈঠকের কথা উল্লেখ করে বলেন, দুই দেশের সহযোগিতামূলক সম্পর্ক আগামী দিনে আরও শক্তিশালী হবে।

অনুষ্ঠানে নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত আসাদ আলাম সিয়াম তার স্বাগত বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, "দীর্ঘ সংগ্রাম ও যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। এবারের বিজয় উদযাপন ২৪’র বিপ্লবের পরবর্তী নতুন এক মাত্রা লাভ করেছে।"

তিনি আরও বলেন, "ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার একটি সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় সহায়তা দিচ্ছে, যা আমরা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করি।"

বিশেষ অতিথি হিসেবে রাষ্ট্রদূত (ডেজিগনেট) মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, "১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল শুধু স্বাধীনতার সংগ্রাম নয়, এটি আমাদের পরিচয়, মর্যাদা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। আমাদের বিজয় উপহার হিসেবে আসেনি, বরং লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে।"

তিনি ২৪ জুলাইয়ের সফল বিপ্লবের কথা স্মরণ করে বলেন, "স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের জন্য লড়াই কখনো শেষ হয় না। ১৯৭১ সালে আমরা বাইরের শোষণের বিরুদ্ধে লড়েছিলাম, আর ২৪ জুলাই আমরা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি।"

মুশফিকুল ফজল আনসারী আরও বলেন, "নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে আমাদের দেশ একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।" যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের পর যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। আজ আমরা গণতন্ত্র, স্বাধীনতা এবং শান্তির প্রতি যৌথ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছি এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার করছি।"

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী দূতাবাসে সেবা নিতে আসা বাংলাদেশীদের প্রতি সুস ব্যবহার আশা করে বলেন, "আমাদের রেমিট্যান্স যোদ্ধারা দূতাবাসে এসে যেন সম্মানজনক ব্যবহার পান।"

এদিন, যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও শ্রম বিষয়ক উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনিকা জেকবসেন, রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলাম, এবং জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের পরিচালকসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও করা হয়।

Post a Comment

0 Comments