আল–জাজিরার প্রতিবেদন: ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত কি ফেরত পাঠাবে?
বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি ভারতের বিবেচনার ওপর নির্ভর করছে। যদিও বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে, তবে এই চুক্তির আওতায় ভারত ঢাকার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করতে পারে। চুক্তির মধ্যে প্রত্যর্পণ বাতিলের সুযোগ রয়েছে, তাই শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরার ‘ইনসাইড স্টোরি’ অনুষ্ঠান সম্প্রতি এই বিষয়টি নিয়ে একটি গভীর বিশ্লেষণ করেছে। ‘‘বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীকে ভারত কি প্রত্যর্পণ করবে?’’ শিরোনামে ওই অনুষ্ঠানের ভিডিও প্রতিবেদন মঙ্গলবার আল–জাজিরার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
গত সোমবার, দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কূটনৈতিক পত্র পাঠানো হয়। এতে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করার অনুরোধ করা হয়েছে।
‘ইনসাইড স্টোরি’ অনুষ্ঠানে ভারতের ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ের অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত, যুক্তরাজ্যের সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো সোহেলা নাজনীন এবং বাংলাদেশের নারী অধিকারবিষয়ক সংগঠন নারীপক্ষের সহপ্রতিষ্ঠাতা শিরীন হক বক্তব্য দেন।
এই প্রসঙ্গে, শ্রীরাধা দত্ত বলেন, শেখ হাসিনাকে ভারতের কাছে প্রত্যর্পণ করা একটি জটিল প্রক্রিয়া, যা শুধুমাত্র রাজনৈতিক নয়, আরও কিছু বিষয় বিবেচনায় রাখতে হবে। তিনি বলেন, ভারত দেখতে চাইবে যে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া কতটা নিরপেক্ষ। এছাড়া, বাংলাদেশ থেকে শুধুমাত্র কূটনৈতিক পত্র পাঠানো হয়েছে, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেওয়া হয়নি, যা ভারত ভাবনায় আনবে।
সোহেলা নাজনীন বলেন, ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায়, কোনো দেশ যদি মনে করে যে ফিরিয়ে দেওয়া ব্যক্তি সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়া পাবেন না, তাহলে ওই দেশ প্রত্যর্পণ চুক্তির আহ্বানে সাড়া নাও দিতে পারে। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে ভারত সরকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।
শিরীন হক বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ থাকলেও বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কী ধরনের বিচার প্রক্রিয়া অনুসরণ করবে, তা নিয়ে আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘‘আমরা সবাই আশা করব, বিচারে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে, অবাধ ও সুষ্ঠু বিচার হবে।’’
তবে, শিরীন হক বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, সেটার সঙ্গে তিনি একমত নন। ২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে শাহবাগে গণজাগরণ হয়েছিল, কিন্তু এবার সেভাবে কোনো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, অতীতে ভারত অভিযুক্তদের প্রত্যর্পণ করেছে, উদাহরণস্বরূপ, শেখ মুজিব হত্যা মামলার আসামি আবদুল মাজেদকে ফেরত পাঠিয়েছিল নয়াদিল্লি। সুতরাং, তিনি আশা করেন ভারত এবারও ঢাকার অনুরোধে সাড়া দেবে।
এভাবে, শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত, এবং ভারতের সিদ্ধান্তের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।


3 Comments
Puja Dibe....
ReplyDeleteসম্ভবত সহজে ফেরত দিবেনা
ReplyDeleteফেরত না দিলে ভারতকে এর খেসারত দিতে হবে।
ReplyDelete