মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ১৪৫তম জন্মদিন আজ

আজ মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ১৪৫তম জন্মদিন। তিনি ছিলেন ব্রিটিশ ভারতে গণআন্দোলনের অন্যতম প্রধান নায়ক এবং পাকিস্তান সৃষ্টি ও ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম স্বপ্নদ্রষ্টা। তার অবদান জাতির ইতিহাসে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

এ দিনটি উপলক্ষে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক দল ও সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করবে।

১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের ধানগড়াপল্লীতে জন্মগ্রহণ করেন এই মহান নেতা। তিনি হাজি শারাফত আলী ও বেগম শারাফত আলীর পরিবারের চার সন্তানের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন। শৈশবে তার ডাকনাম ছিল ‘চেগা মিয়া’। ইসলামী শিক্ষায় অনুপ্রাণিত হয়ে ১৯০৭ সালে তিনি দেওবন্দ গিয়ে দুই বছর অধ্যয়ন করেন, পরে আসামে ফিরে আসেন। ১৯১৭ সালে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের ময়মনসিংহ সফর এবং তার ভাষণ শুনে মওলানা ভাসানী অনুপ্রাণিত হন।

ভাসানী তার জীবনকাল ধরে শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছেন। তিনি মুসলমানদের জন্য মজলুমের পক্ষে দাঁড়ানোর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে পথনির্দেশ দিয়েছেন। ১৯১৯ সালে কংগ্রেসে যোগদানের পর তিনি খেলাফত আন্দোলন ও অসহযোগ আন্দোলনে অংশ নেন এবং ১০ মাস কারাবাসে থাকেন। ১৯২৬ সালে আসামে কৃষক-প্রজা আন্দোলন শুরু করেন, এবং ১৯২৯ সালে ধুবড়ী জেলার ব্রহ্মপুত্র নদের ভাসানচরে প্রথম কৃষক সম্মেলন আয়োজন করেন। এখান থেকেই তার নামের সাথে ‘ভাসানী’ যুক্ত হয়।

ভাষা আন্দোলনেও মওলানা ভাসানী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৪৮ সালের নভেম্বর মাসে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানের বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার বিরোধিতায় তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানান। এরপর থেকে তার সরকারবিরোধী রাজনৈতিক ভূমিকা আরও দৃঢ় হয়।

১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট গঠনকারী প্রধান নেতাদের অন্যতম ছিলেন মওলানা ভাসানী। ১৯৬৪, ১৯৬৫, ১৯৬৮ সালের আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি ভারতে চলে যান এবং প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি হন। ১৯৭২ সালে ঢাকায় পল্টনের জনসভায় তিনি চোরাচালানের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান নেন।

মওলানা ভাসানী ১৯৩১ সালে সন্তোষের কাগমারী, ১৯৩২ সালে সিরাজগঞ্জের কাওরাখোলা, এবং ১৯৩৩ সালে গাইবান্ধায় বিশাল কৃষক সম্মেলন করেন। ১৯৭৬ সালে ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারের বিরুদ্ধে তিনি ঐতিহাসিক লংমার্চ করেন, যা ইতিহাসে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে আছে।

মওলানা ভাসানী ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর ঢাকার পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন এবং টাঙ্গাইলের সন্তোষে চিরনিদ্রায় শায়িত হন। তার অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ, ২০০২ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করে। ২০০৪ সালে বিবিসি জরিপে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি তালিকায় তিনি অষ্টম স্থান অর্জন করেন।

আজকের এই দিনে, মওলানা ভাসানীকে স্মরণ করে তার সংগ্রাম ও অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে।