এখনও বাজারে সয়াবিন তেলের সংকট, দাম বাড়ছে


বাজারে সয়াবিন তেলের সংকট এখনও কাটেনি, যদিও ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের দাবিগুলি মেনে নেওয়া হয়েছে। তদারকি সংস্থার যথাযথ নজরদারির অভাবে মিলগুলো থেকে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হওয়ায় ডিলারের কাছে পর্যাপ্ত তেল নেই। এর ফলে খুচরা বাজারে তেলের সরবরাহে আবারও টান পড়েছে, যার কারণে সপ্তাহের ব্যবধানে তেলের দাম আরও বেড়ে গেছে।

এছাড়া, খুচরা বাজারে মানভেদে আলু বিক্রি হচ্ছে ৬৫-৮০ টাকা কেজি, এবং চালের দামও বেড়েছে। সরবরাহ বৃদ্ধি সত্ত্বেও দেশের পেঁয়াজের দাম এখনও কেজি প্রতি ৯০-১২৫ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১০০-১৩০ টাকা। ব্রয়লার মুরগির কেজি ২০০ টাকা হয়ে গেছে।

বাজারের অবস্থা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার—নয়াবাজার, জিনজিরা বাজার, রামপুরা বাজার, কাওরান বাজার ও মালিবাগ কাঁচাবাজার পরিদর্শন করা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, নভেম্বরের শুরু থেকে সয়াবিন তেলের বাজার অস্থির হয়ে ওঠে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ায়, কয়েকটি কোম্পানি অতিরিক্ত দাম দিয়ে তেল বিক্রি করতে শুরু করে, ফলে মিলগুলোতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়। এতে বোতলজাত সয়াবিন তেল বাজার থেকে উধাও হয়ে যায় এবং খোলা তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে যায়।

সরবরাহ পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী সরকার প্রথমে ১৭ অক্টোবর ও দ্বিতীয় দফায় ১৯ নভেম্বর আমদানিতে শুল্ক কর কমায়, যা ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। এতে কিছুটা দাম কমলেও, নভেম্বরে বোতলজাত তেলের সরবরাহ আবার সংকুচিত হয়ে পড়ে। তবুও বাজারে দাম সহনীয় পর্যায়ে পৌঁছায়নি, ফলে ৯ ডিসেম্বর লিটারে ৮ টাকা বাড়ানো হয়। এরপর ১৬ ডিসেম্বর সরকার ভোজ্যতেলের দাম সহনীয় রাখার জন্য ৩১ মার্চ পর্যন্ত আমদানিতে শুল্ক, রেগুলেটরি ডিউটি ও অগ্রিম আয়কর শতভাগ অব্যাহতি ঘোষণা করে। সেইসঙ্গে ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়। তবে, তেল সংকট এখনও কাটেনি এবং বাজার থেকে বোতলজাত সয়াবিন তেল উধাও।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, "বাজারে কয়েকটি কোম্পানি ভোজ্যতেল নিয়ে কারসাজি করছে। সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেও, ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট এখনও সরবরাহ বাড়াচ্ছে না।" তিনি আরও বলেন, "তাদের কথা মেনে চললেও, এখনো বাজারে সংকট তৈরি করে রাখা হয়েছে এবং সরকার দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে।"

বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ৫ লিটারের বোতল ৮৩৭ টাকায় কিনে ৮৫২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আর ৩ লিটারের বোতল ৫১৬ টাকায় কিনে ৫২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা সয়াবিন তেল ডিলারদের কাছে ১৮৮ টাকায় কিনতে হয়, যা ১৮৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। পাম অয়েলও ১৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, কিনতে হয় ১৭১ টাকায়। তবে, দুই লিটারের তেল এখন ৩৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা ৭ দিন আগেও ছিল ৩৪৫-৩৫০ টাকা।

এদিকে, আলু ও চালের দামও বৃদ্ধি পাচ্ছে। খুচরা বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে ৬৫-৮০ টাকা কেজি, যদিও আমদানিতে শুল্ক কমানোর পরেও দাম নিয়ন্ত্রণে আসেনি। একইভাবে, চালের দামও বাড়তি। ভরা মৌসুমেও মিলাররা দাম কমাচ্ছে না। কাওরান বাজারের এক মিলার জানান, "মিলাররা দাম কমাচ্ছে না, বরং নতুন করে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে।"

পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়েছে এবং দামও কিছুটা কমেছে। তবে, বাজারে দেশের পেঁয়াজ কেজি ৯০-১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১০০-১৩০ টাকা। আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০-৯০ টাকায়, যা ৭ দিন আগেও ছিল ৮০-১০০ টাকা।