Editors Choice

3/recent/post-list

হিজবুল্লাহ: মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে শক্তিশালী আধা-সামরিক বাহিনী

 হিজবুল্লাহ: মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে শক্তিশালী আধা-সামরিক বাহিনী


প্রায় এক বছর ধরে ইসরাইল ও লেবাননের হিজবুল্লাহর মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষ চলছিল। তবে সম্প্রতি পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে, যা পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে। গাজার হামাসের চেয়ে ইসরাইলের জন্য হিজবুল্লাহ অনেক বেশি শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। ইরান-সমর্থিত এই গ্রুপকে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে শক্তিশালী আধা-সামরিক বাহিনী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

হিজবুল্লাহর ইতিহাস এবং রাজনৈতিক ভূমিকা

হিজবুল্লাহ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮২ সালে, লেবাননের গৃহযুদ্ধ চলাকালে। এর প্রধান লক্ষ্য ছিল দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের দখলদারিত্বের অবসান ঘটানো। ২০০০ সালে ইসরাইলকে বাধ্য করে লেবানন থেকে সরে যেতে, কিন্তু এরপরও তারা ইসরাইলকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

শিয়া মুসলিমদের এই সংগঠনটি ইরানের সমর্থনপুষ্ট এবং লেবাননে রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী। হিজবুল্লাহ কেবল একটি সশস্ত্র সংগঠন নয়, এটি একটি রাজনৈতিক দলও। লেবাননের সংসদে তাদের আইনপ্রণেতা রয়েছে এবং দেশটির সরকারে তাদের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। এছাড়া, হিজবুল্লাহর সমাজসেবামূলক কার্যক্রমও উল্লেখযোগ্য, বিশেষ করে দক্ষিণ লেবানন এবং অন্যান্য অঞ্চলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র পরিচালনা করে তারা।

হিজবুল্লাহর সামরিক শক্তি

হিজবুল্লাহ বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম সুসজ্জিত আধা-সামরিক বাহিনী। ইরান থেকে সমর্থন পাওয়া এই গ্রুপটি সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে সমর্থন করেছে এবং সিরিয়া ও ইরাকে অন্যান্য ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে। তাদের সামরিক বাহিনীতে এক লক্ষেরও বেশি যোদ্ধা রয়েছে বলে দাবি করা হয়। ইসরাইলের মতে, হিজবুল্লাহর কাছে ১৫০,০০০ রকেট এবং ক্ষেপণাস্ত্র আছে, যেগুলো ইসরাইলের যেকোনো অংশে আঘাত হানতে সক্ষম।

সম্প্রতি ইসরাইলের সঙ্গে সংঘর্ষের সময়, হিজবুল্লাহ নতুন অস্ত্র যুক্ত করেছে, যেমন ড্রোন এবং ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র। তাদের দাবি, ড্রোনগুলো স্থানীয়ভাবে তৈরি এবং আরও রয়েছে। তবে, ইসরাইলের আক্রমণে হিজবুল্লাহর সরঞ্জাম সরবরাহ লাইনের নিরাপত্তায় ফাঁকফোকর ধরা পড়েছে।

হিজবুল্লাহর নেতা হাসান নাসরাল্লাহ

হিজবুল্লাহর বর্তমান নেতা হাসান নাসরাল্লাহ, যিনি ১৯৬০ সালে বৈরুতের শহরতলিতে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৯২ সালে ইসরাইলি হামলায় তৎকালীন হিজবুল্লাহ প্রধান নিহত হলে, নাসরাল্লাহ সংগঠনের নেতা হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০০৬ সালে ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধের পর তার জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। তবে তার বিরোধীরাও আছে, যারা অভিযোগ করেন যে নাসরাল্লাহ লেবাননের স্বার্থকে ইরানের সাথে সংযুক্ত করে ফেলেছেন।

নাসরাল্লাহকে ইসরাইল হত্যার চেষ্টা করতে পারে, এ আশঙ্কায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে লুকিয়ে থাকেন এবং তার ভাষণ অজ্ঞাত স্থান থেকে রেকর্ড করা হয়।

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক এবং সামরিক ক্ষেত্রে হিজবুল্লাহর প্রভাব অত্যন্ত গভীর। লেবাননের ভেতরে রাজনৈতিক এবং সামরিক শক্তি হিসেবে এই গ্রুপের অবস্থান মজবুত। ইরানের সমর্থন এবং নিজেদের সামরিক সক্ষমতা দিয়ে হিজবুল্লাহ ইসরাইলের জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।


Post a Comment

0 Comments