Editors Choice

3/recent/post-list

নির্বাচন নিয়ে তাড়াহুড়া করছে না বিএনপি, রোডম্যাপের প্রত্যাশা!

 নির্বাচন নিয়ে তাড়াহুড়া করছে না বিএনপি, রোডম্যাপের প্রত্যাশা!

বিএনপি আপাতত নির্বাচন নিয়ে তাড়াহুড়া করছে না। তবে তারা সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রমের পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে দ্রুত একটি নির্বাচনী রোডম্যাপের প্রত্যাশা করছে। দলটির নীতিনির্ধারকরা বিশ্বাস করেন, গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের দ্বারা পরিচালিত। জনগণের ক্ষমতায়ন ও নির্বাচিত সংসদ গঠনের মাধ্যমে এই সরকারের সংস্কার কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য অর্জিত হওয়া উচিত বলে মনে করে বিএনপি। 


সম্প্রতি সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, আগামী ১৮ মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে সেনাবাহিনী পূর্ণ সমর্থন দেবে। তিনি উল্লেখ করেছেন, সেনাবাহিনী রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। এই সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য এবং সশস্ত্রবাহিনীকে প্রেসিডেন্টের অধীনে নেয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোও উঠে আসে।


তীব্র গণ-আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার শাসনের পতনের পর নোবেল বিজয়ী ড. মুহম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করেন। এর পর থেকেই বিএনপি একটি যৌক্তিক সময়ের মধ্যে নির্বাচন দাবি করে আসছে। তবে এই সময়সীমা এখনো নির্দিষ্ট করা হয়নি। বিএনপির নেতারা এই সরকারের সাথে সহযোগিতার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং সরকারের সংস্কার উদ্যোগকে ব্যর্থ হতে দিতে চান না। 


বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও সাম্প্রতিক সমাবেশে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি তাদের প্রত্যাশা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। তিনি সতর্ক করেন যে, জনগণের ক্ষমতায়ন ছাড়া কোনো সংস্কার কার্যক্রম টেকসই হবে না। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনই জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে পারে বলে মনে করেন তিনি। 


সেনাপ্রধানের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, যৌক্তিক সময়ের মধ্যেই নির্বাচন হওয়া উচিত। নির্বাচন যত দ্রুত হবে, ততই দেশের জন্য মঙ্গল হবে বলে তিনি মনে করেন। 


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, রাষ্ট্রীয় সংস্কারের সাথে একটি নির্বাচনী রোডম্যাপও প্রয়োজন, যাতে জনগণ চলমান সংস্কার কার্যক্রমকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হিসেবে উপলব্ধি করতে পারে। 


ইতোমধ্যে সরকার ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যার মধ্যে রয়েছে নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ, এবং পুলিশ। বিএনপি এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে এবং নিজেদের অবস্থান ঠিক করতে দলটি ছয়টি কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটিগুলো সরকারের সংস্কারের বিষয়ে পরামর্শ দিতে এবং দলের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণে কাজ করবে।


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, ছাত্ররাজনীতি বন্ধ না করে ক্যাম্পাসে ইতিবাচক রাজনীতি ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেবে দলটি। বৈঠকে পার্বত্য চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক সংঘর্ষের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় এবং এ নিয়ে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। 


তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির এই নতুন কৌশল ও পরিকল্পনা দলকে সংস্কার ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার একটি সুদূরপ্রসারী রোডম্যাপ তৈরিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে প্রস্তুত করছে।

Post a Comment

0 Comments