৩০ টাকার সবজি ১৫০ টাকায়: সিন্ডিকেটের কারসাজিতে বাজারে অস্থিরতা
বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজারে সব পণ্যের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। বিশেষ করে সবজির ক্ষেত্রে, কৃষক পর্যায়ে ৩০ টাকা কেজির সবজি ভোক্তার কাছে পৌঁছাচ্ছে ১৫০ টাকায়। ঢাকা শহরের খুচরা বাজারে বেশির ভাগ সবজির দাম ১০০ টাকার উপরে, এবং কিছু সবজি ৩০০ টাকাকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
একাধিক হাত বদলের কারণে কৃষকের ৩০ টাকার সবজি ভোক্তা ১৫০ টাকায় কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় ব্যবসায়ী, ব্যাপারী, ফড়িয়া ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষক যে দামে পণ্য বিক্রি করছেন, ঢাকা শহরের ক্রেতা সেই দামে পাচ্ছেন না—বরং পাঁচ গুণ বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।
একাধিক হাত বদলের কারণে কৃষকের ৩০ টাকার সবজি ভোক্তা ১৫০ টাকায় কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় ব্যবসায়ী, ব্যাপারী, ফড়িয়া ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষক যে দামে পণ্য বিক্রি করছেন, ঢাকা শহরের ক্রেতা সেই দামে পাচ্ছেন না—বরং পাঁচ গুণ বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের দাম কমার পরও পণ্যের দাম কমেনি। বরং প্রতিদিন নতুন নতুন উচ্চতায় পৌঁছাচ্ছে। স্থানীয় বাজারে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত সবজি কম দামে বিক্রি করলেও, তা হাতে আসতে আসতে দাম বেড়ে যাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, রংপুর, ময়মনসিংহ ও মানিকগঞ্জের কৃষকরা বিভিন্ন সবজি ৩০-৪৫ টাকায় বিক্রি করছেন, কিন্তু কাওরান বাজারে এসে তা ৫৫-৬০ টাকায় বিক্রি হয়।
পাইকারি ব্যবসায়ীরা আবার এই সবজি খুচরা বিক্রেতাদের কাছে ১৫ থেকে ৩০ টাকা লাভে বিক্রি করেন, ফলে খুচরা বিক্রেতার হাত ধরে ভোক্তাদের কাছে দাম পৌঁছায় ৮০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে।
কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান জানান, বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে মধ্যস্বত্বভোগীরা অতি মুনাফা লুটছে। যদি কৃষক সরাসরি পাইকারি ও খুচরা বাজারে পণ্য বিক্রি করতে পারতেন, তবে ভোক্তাদের দাম কমাতে সম্ভব হতো।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ টাস্কফোর্স ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে দেখা গেছে, কাওরান বাজারে অবৈধ ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে জড়িত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
শেষে, কৃষক মজনু মন্ডল জানান, তিনি লাভের আশা নিয়ে চাষ করেন, কিন্তু বাস্তবে তার উৎপাদিত পণ্য হাত বদল হয়ে ভোক্তার কাছে পৌঁছাচ্ছে চড়া দামে। এমন অবস্থায় সরাসরি পাইকারি বাজারে বিক্রি করা গেলে কৃষক ও ভোক্তা উভয়েই লাভবান হবেন।
এদিকে, বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। মো. আমিনুল বলেন, তিনি বাজারে স্বস্তি ফিরে আসার আশা করেছিলেন, কিন্তু বাস্তবে দাম বেড়েই চলেছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করছে যে, তাদের অভিযান চলমান থাকলে শিগগিরই বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে।


2 Comments
সুবিধাবাদীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া এখন সময়ের দাবি।
ReplyDeleteএটা বাংলাদেশের মানুষের সুবিধা বাদী চরিত্র।
ReplyDelete