মুজিবুল হকের বিয়ে ও কিবরিয়ার গ্রেফতার: ঘটনার পেছনের কাহিনী
সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া মজুমদার অবশেষে গ্রেফতার হয়েছেন। তিনি অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু শনিবার তাকে আটক করে বিজিবি। হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন এবং ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমাতে আওয়ামী ক্যাডার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন।
কিবরিয়া দীর্ঘ আট বছর ধরে মুজিবুল হকের পিএস হিসেবে কাজ করেছেন। এই সময়ের মধ্যে রেলের বড় বড় ঠিকাদারি কাজের নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। তবে মুজিবুল হকের আশীর্বাদে তিনি তখনো নিরাপদ ছিলেন। রেল কর্মকর্তারা তাকে 'কালোবিড়াল' নামে চেনে, যা তার খারাপ কার্যকলাপের জন্য দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে যে, মুজিবুল হক নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ায় কিবরিয়া মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠেন। এমনকি মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ফাইলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও মন্ত্রী তার সঙ্গে পরামর্শ করতেন।
মজিবুল হকের সঙ্গে কিবরিয়ার বান্ধবী হনুফা আক্তার রিক্তার বিয়ের ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনা সৃষ্টি করে। অনেকের মতে, কিবরিয়া পরিকল্পিতভাবে এই বিয়ের আয়োজন করেন যাতে মন্ত্রীকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
কিবরিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে গিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করেছেন। রেলের ঠিকাদারি কাজে টাকা নেওয়া এবং ঘুসের মাধ্যমে তিনি বহু অর্থ সংগ্রহ করেছেন। তার বিরুদ্ধে দুদকের তদন্তও চলছিল, কিন্তু ২০১৯ সালে মুজিবুল হক রেলমন্ত্রী পদ থেকে বাদ পড়ার পর কিবরিয়া কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়েন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রেল কর্মকর্তা জানান, কিবরিয়ার শোবিজ জগতে ওঠাবসা ছিল এবং নানা অভিনেত্রীদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা নিয়ে বিভিন্ন গল্প ছড়ায়। এমপি হওয়ার স্বপ্নও দেখছিলেন কিবরিয়া, কিন্তু তার স্বপ্ন এখনও পূরণ হয়নি।
শনিবার, কসবা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানোর সময় তাকে আটক করা হয়। বিজিবি সূত্র জানায়, কিবরিয়া পুটিয়া এলাকার সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের জন্য ঘোরাঘুরি করছিলেন, তখন তাকে আটক করা হয়। পরে পাসপোর্ট আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয় এবং আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।


4 Comments
দেশটাকে তোমরা/তোমরামত লোভি কিছু মানুষ ধ্বংস করেছে। তোমাদের কঠোর শাস্তির বিধান করা উচিত।
ReplyDeleteএদের কে ক্রস ফায়ার করে দিন
ReplyDeleteকালো বিড়ালের যত্নের যেন কোন ত্রুটি না হয়।
ReplyDeleteবুড়া বেটা
ReplyDelete