Editors Choice

3/recent/post-list

বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন: ডিম-মুরগির দাম বাড়িয়ে ২৮০ কোটি টাকা লোপাট

বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন: ডিম-মুরগির দাম বাড়িয়ে ২৮০ কোটি টাকা লোপাট


ডিমের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে, যেখানে সপ্তাহের ব্যবধানে একটি ডিমের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ টাকায়। এই পরিস্থিতির জন্য বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ) বহুজাতিক কোম্পানি এবং তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী সমিতিকে দায়ী করেছে। সংগঠনটির সভাপতি মো. সুমন হাওলাদার জানিয়েছেন, গত ২০ দিনে অযৌক্তিকভাবে ডিম ও মুরগির বাচ্চার দাম বাড়িয়ে অসাধু চক্র ২৮০ কোটি টাকা লুটপাট করেছে।

সুমন হাওলাদার বিবৃতিতে বলেন, "সারা দেশে ডিমের বাজারে অস্থিরতা চলছে। সরকারের দাম নির্ধারণ করা হলেও কৃষি বিপণন অধিদপ্তর কোনও প্রান্তিক খামারিকে ওয়ার্কিং গ্রুপ কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করেনি। এর ফলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।" তিনি আরও বলেন, ফিড ও মুরগির বাচ্চার উৎপাদনকারী কোম্পানি এবং শক্তিশালী সিন্ডিকেটের হাতে বাজার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, "প্রান্তিক পর্যায়ে একটি ডিমের উৎপাদন খরচ ১০ টাকা ২৯ পয়সা। যদি ভোক্তা পর্যায়ে দাম ১২ থেকে সাড়ে ১২ টাকা হয়, তবে সেটি যৌক্তিক। কিন্তু বর্তমানে ডিমের দাম ১৫ টাকা হয়েছে।"

বিবৃতিতে সিন্ডিকেটের কার্যক্রম বর্ণনা করা হয়েছে, যেখানে খামার থেকে ডিম সংগ্রহের পর সেগুলো ঢাকার বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। এরপর তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী সমিতি ফজরের নামাজের পর দাম নির্ধারণ করে মোবাইল এসএমএস ও ফেসবুকের মাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেয়। এর ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে দাম বাস্তবায়ন করা হয়।

তিনি অভিযোগ করেছেন যে, সিন্ডিকেট প্রথমে দাম কমিয়ে ডিম কিনে ৫ থেকে ৭ দিন সংরক্ষণ করে। পরে দাম বাড়িয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ লাভ করে। এর ফলে উৎপাদক ও ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যখন দেশের ডিম ব্যবসায়ীরা লাভবান হচ্ছে।

সুমন হাওলাদার আরও জানান, "ফিড ও মুরগির বাচ্চার বাজার করপোরেট কোম্পানিগুলোর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তারা এতটাই শক্তিশালী যে, সরকার দাম নির্ধারণ না করে উৎপাদকদের ওপর চাপ প্রয়োগ করছে।"

তিনি বলেন, "১৫ সেপ্টেম্বর ডিম-মুরগির দাম নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু সেই নির্ধারিত দামে কেউ ডিম বিক্রি করছে না।"

এই অবস্থায় পোলট্রি শিল্পের সংকট নিরসনে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি, যেন ডিম-মুরগির উৎপাদন খরচ কমিয়ে বাজারকে স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হয়।


Post a Comment

2 Comments

  1. অল্প কিছু ভাল মানুষ রয়েছে এই দেশে। বাকী বেশী ভাগটা চোরের দেশ এই বাংলাদেশ। আইনের কঠোর প্রয়োগ দরকার।

    ReplyDelete
  2. এরকম অসাধু ব্যবসায়ীদেরকে চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।

    ReplyDelete