বিজেপির 'কৌশল ফাঁস' করলেন অখিলেশ যাদব, সম্ভলে শাহী জামা মসজিদ নিয়ে সংঘর্ষে তিনজন নিহত
উত্তরপ্রদেশের সম্ভল জেলার প্রাচীন মুঘল যুগের শাহী জামা মসজিদ নিয়ে সম্প্রতি উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় পুলিশ ও জনতার মধ্যে রোববার সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত তিনজন নিহত এবং ৩০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। সহিংসতার পর গোটা এলাকায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
যে মসজিদটির কারণে এই সহিংসতা শুরু, সেটি শাহী জামা মসজিদ নামে পরিচিত। হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী দাবি করেছে, এই মসজিদটি একটি প্রাচীন হিন্দু মন্দির ভেঙে নির্মিত হয়েছে, এবং তাদের মতে, মসজিদের স্থাপত্যেও সেই মন্দিরের কিছু চিহ্ন রয়েছে। এই দাবির ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে আদালতে আইনি লড়াই চলছে। সম্প্রতি আদালত ওই মসজিদ প্রাঙ্গণে ‘সার্ভে’ (সমীক্ষা) করানোর নির্দেশ দেয়, যা নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় পুলিশ জানায়, রোববার সকালে প্রশাসনের একটি সার্ভে টিম মসজিদে কাজ শুরু করতেই মসজিদের বাইরে একটি বিশাল জনতা জড়ো হয়ে যায়, এবং সহিংসতা শুরু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় এক হাজার মানুষ তখন মসজিদের বাইরে ছিল, যারা ভিতরে ঢোকা ঠেকানোর চেষ্টা করে। এসময় পাথর, ইট ও অন্যান্য বস্তু পুলিশ সদস্যদের দিকে ছোড়া হয় এবং প্রায় দশটি গাড়ি ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে ও লাঠিচার্জ শুরু করে। এই সহিংসতায় অন্তত তিনজন নিহত হয় এবং বহু পুলিশ সদস্য আহত হন।
অখিলেশ যাদব, সমাজবাদী পার্টির সভাপতি, অভিযোগ করেছেন যে, বিজেপি সরকার সম্ভলে সজাগভাবে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, যাতে সাম্প্রতিক উপনির্বাচনগুলোতে ঘটে যাওয়া ‘নির্বাচনি অনিয়ম’ থেকে জনগণের দৃষ্টি সরিয়ে নেওয়া যায়। তিনি নিজের এক্স (টুইটার) হ্যান্ডলে বলেছেন, "এটা ইচ্ছাকৃতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য করা হয়েছে, যাতে নির্বাচনের নিয়ে বিতর্কের সুযোগ না থাকে।"
মসজিদে সার্ভে করার পক্ষে কিছু লোক দাবি করেছেন, এটি একটি প্রাচীন হিন্দু মন্দির ভেঙে নির্মিত হয়েছিল, এবং তারা চান এই 'ঐতিহাসিক সত্য' উদঘাটন করা হোক। অন্যদিকে মসজিদ কর্তৃপক্ষ এবং সার্ভের বিরোধীরা বলেছেন, ভারতের ধর্মীয় উপাসনালয় আইন অনুযায়ী, ১৯৪৭ সালে দেশের স্বাধীনতার সময় যেমন ধর্মীয় স্থল ছিল, তেমনি তা অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে। এ কারণে শাহী জামা মসজিদে সার্ভে চালানো অপ্রয়োজনীয় এবং এটি শুধু অযথা উত্তেজনা তৈরি করবে।
এদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, সহিংসতার ঘটনায় অভিযুক্ত ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, এবং সার্ভে কাজ পরিকল্পনামাফিক সম্পন্ন হয়েছে। সার্ভে টিম পুরো মসজিদটি পর্যালোচনা করেছে এবং ভিডিওগ্রাফি ও ফটোগ্রাফিও করা হয়েছে। এই রিপোর্ট আগামী ২৯ নভেম্বর আদালতে জমা দেওয়া হবে।
রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সহিংসতার এই ঘটনা ভারতীয় রাজনীতি এবং সমাজের মধ্যে তীব্র আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।


1 Comments
আমরা মর্মাহত!!!!!
ReplyDelete